বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
মাত্র এক রোজা, মিলতে পারে দুই বছরের গুনাহ মাফ!
অনলাইন ডেস্ক
নিশ্চিতই আরাফা একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ—চেনা ও জানা। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলন হয়েছিল এই আরাফাত দিবসেই। এটি শুধু এক স্মরণীয় মিলনের দিন নয়, বরং এক আত্মশুদ্ধির দিন—তওবা, ক্ষমা ও অনুতাপের পূর্ণাঙ্গ উপলক্ষ। আরাফার বিশাল ময়দান যেন কেয়ামতের হাশরের ময়দানের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সমস্ত মানবজাতি একত্রিত হবে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। এদিনে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সীমাহীন রহমত ও করুণা বিলিয়ে দেন বান্দাদের মাঝে।
জিলহজ মাসের ৯ তারিখেই পড়ে এ মহান আরাফাত দিবস। এবারের হজে সৌদি আরবে অবস্থানরতদের জন্য এই দিনটি ছিল ৫ মে, বৃহস্পতিবার। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকা মুসলমানরা স্থানীয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ৯ জিলহজ নির্ধারণ করে সেই অনুসারে রোজা পালন করবেন।
আরাফার দিনের রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই—হাদিসে এক দিনের রোজার কথাই এসেছে। যারা বলছেন, একটি রোজা যথেষ্ট নয়, তাদের এই দাবির ভিত্তি নেই। একমাত্র আরাফার দিনের রোজা রাখলেই হাদিসের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এক বছর আগের ও এক বছর পরের গুনাহ ক্ষমা করে দেন আল্লাহ। হাদিসে এসেছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার রোজা দ্বারা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (মুসলিম: ১১৬২)
নবীজির স্ত্রী থেকে বর্ণিত আরও একটি হাদিসে জানা যায়, তিনি ৯ জিলহজ তারিখে রোজা রাখতেন। (আবু দাউদ: ২৪৩৭)
তবে সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমল হলো—যারা জিলহজের ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখেন। এতে শুধু আরাফার রোজা নয়, বরং তারা আরও অধিক সওয়াব ও নৈকট্য লাভ করেন। কেননা জিলহজের প্রথম দশ দিন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এই সময়ে নেক আমলের মাধ্যমে বান্দা সহজেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। কোরআনে সূরা ফজরের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَ الفَجْرِۙ وَ لَیَالٍ عَشْرٍ
উচ্চারণ: ওয়াল ফাজর, ওয়ালায়ালিন আশর।
অর্থ: শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের।
বিখ্যাত মুফাসসিরদের মতে, এই ‘দশ রাত’ হচ্ছে জিলহজের প্রথম দশ রাত। আল্লাহ নিজেই যখন কোনো সময়ের কসম করেন, তখন সেই সময়ের গুরুত্ব যে কতটা মহান—তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না।
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
জিলহজের প্রথম দশ দিনে করা নেক আমল আল্লাহর নিকট এতটাই প্রিয়, যা অন্য কোনো সময়ের আমলে নেই। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি এর চেয়ে উত্তম নয়? নবীজি বললেন, না। তবে সেই ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে এবং কিছুই ফিরে পায় না। (বুখারি: ৯৬৯)